জুয়া ও হুন্ডি: মোবাইলে লেনদেনের ২২ হাজার অ্যাকাউন্ট বন্ধ
অনলাইন জুয়া ও হুন্ডির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ হাজার ৭২৫টি মোবাইল হিসাব (মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস) বন্ধ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এসব হিসাবের বেশিরভাগই নগদ, বিকাশ ও রকেটের। ভবিষ্যতে এ ধরনের লেনদেনে জড়িত না হতে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্কও করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মানি লন্ডারিংবিরোধী কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বিএফআইইউ এসব তথ্য তুলে ধরে। বিএফআইইউর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মাসে ৩৭১টি অনলাইন গেমিং ও বেটিং লেনদেন, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং সম্পর্কিত ৯১টি লেনদেন এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কিত ৪১৩টি লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় বিএফআইইউ-এর প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাস সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদারসহ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অন্যান্য কমিশনার ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএফআইইউ এর উপপ্রধান কর্মকর্তা এ এফ এম শাহীনুল ইসলাম, বিএফআইইউ এর পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম ও মো. আরিফুজ্জামান ও সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান ও উপ-প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অডিটের বিস্তারিত নিয়ে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ও ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিটিআরসির কমিশনার (অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব) ড. মুসফিক মান্নান চৌধুরী।

ড. মুসফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ২০২২ সালে তিনি বিটিআরসিতে যোগ দেয়ার পর দেখতে পান বিটিআরসির অডিট সম্পন্ন হয়নি। সেই অডিট সম্পূর্ণ করতে তার ৬ মাস সময় লেগেছিল কারণ আগের বছরের অ্যাকাউন্টের বইগুলিতে কিছু অ্যাকাউন্টিং সংশোধনের করা দরকার ছিল।
সভায় কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ গ্রহণ করে বা নন-ফান্ডেড সুবিধাকে ফান্ডেড সুবিধায় রূপান্তর ও ফোর্সড লোন সৃষ্টি করে বিদেশে অর্থ পাচারসহ বৈদেশিক বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার, অনলাইন ফরেক্স ট্রেডিং,গেমিং,বেটিং, ডিজিটাল হুন্ডি, ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্লাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রা বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগসহ বিভিন্ন সমসাময়িক ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া ওয়েজ আর্নারগণ যাতে ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান সে বিষয়ে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সচেতনতা বাড়ানোরও তাগিদ দেন।
বিএফআইইউ-এর প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুষ্কৃতকারী ও অর্থ পাচারকারীরা যাতে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ব্যবহার করে কোনও অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
বিএফআইইউ আর্থিক অপরাধের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের পরিপালন ব্যবস্থায় দুর্বলতা দেখা যাবে, তাদের বিষয়েই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ২৮ ধারা অনুযায়ী টেলিযোগাযোগ খাতের এই নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে প্রতি বছর ৯০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তাদের অডিট প্রতিবেদন জমা দেয়ার নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম মেনে ২১ বছরের মধ্যে এ বছেই বেধে দেয়া সময়েই নিজেদের নিরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বিটিআরসি।







